মালয়েশিয়ায় গত মাসে পাম অয়েলের উৎপাদন কমেছে। এ সময় দেশটিতে ভোজ্যতেলটির চাহিদাও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এর পরও জুনে অন্যতম শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশটিতে পাম অয়েলের মজুদ বেড়ে ১৮ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। প্রত্যাশার তুলনায় রফতানি হ্রাস মজুদ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ ও রয়টার্স।
মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের (এমপিওবি) তথ্যানুযায়ী, জুন শেষে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ ২ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে ২০ লাখ ৩০ হাজার টনে পৌঁছে। এটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এছাড়া গত মাসে মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল রফতানি ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ১২ লাখ ৬০ হাজার টনে নেমে এসেছে।
এমপিওবি আরো জানায়, গত মাসে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন গত চার মাস পর প্রথমবারের মতো কমেছে। এ সময় ভোজ্যতেলটির মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ৯০ হাজার টন, যা মে মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম। এ সময় মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৫০ টনে পৌঁছেছে।
রয়টার্স এর আগে মালয়েশিয়ায় জুনে পাম অয়েল মজুদের পরিমাণ ১৯ লাখ ৯০ হাজার টন, উৎপাদন ১৭ লাখ টন এবং রফতানি ১৪ লাখ ৫০ হাজার টনের পূর্বাভাস দিয়েছিল।
মুম্বাইভিত্তিক ভোজ্যতেল ব্রোকার কোম্পানি সানভিন গ্রুপের রিসার্চ হেড অনিলকুমার বাগানি জানান, রফতানিতে বড় ধসের কারণে মজুদ ২০ লাখ টনের ওপরে পৌঁছেছে।
এদিকে জুনে লোড হওয়া কিছু কার্গো ভারতের বন্দর জটের কারণে জুলাইয়ে রফতানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে জুলাইয়ে রফতানি শুল্ক ৯ দশমিক ৫ থেকে কমিয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর প্রভাবে সামনের দিনগুলোয় রফতানি বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে জুলাইয়ের প্রথম ১০ দিনে রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে অ্যামস্পেক এগ্রি মালয়েশিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মাসে রফতানি আরো বাড়তে পারে। কারণ কিছু রফতানিকারক শুল্ক সুবিধার কারণে আগস্টের সরবরাহও জুলাইয়ে এগিয়ে আনতে পারেন।